শামশুল আলম শারেক, টেকনাফ:
টেকনাফের হ্নীলার জাদীমুরায় ইয়াবার যাতাকলে পড়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এখানকার কথিত ৫জইন্যা ইয়াবা সিন্ডিকেট প্রশাসনের নাকের ডগায় বীরদর্পে ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, উঠতি ইয়াবা কারবারীর অপতৎপরতায় সাধারণ মানুষ রীতিমত অতীষ্ট হয়ে পড়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের প্রলোভনে পড়ে ইয়াবার চালান পৌছে দিতে গিয়ে দরিদ্র পরিবারের অনেকে বর্তমানে জেল খাটছে। পরিবার পরিজন অভাব অনটনে দিনাতিপাত করছে বলে ভুক্তভোগী অনেকে জানিয়েছে। এলাকার খেটে খাওয়া যুবকরা এখন হাতের কাজ বাদ দিয়ে খুচরা ইয়াবা ব্যবসার দিকে ঢুকছে। ইয়াবা পাইকাররা সুযোগ বুঝে উঠতি যুবকদের ব্যবহার করে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম বসেই লাখ লাখ টাকা আয় করছে। মরণ নেশা ইয়াবা বেচা-বিক্রির সুযোগে শত শত যুবক এখন ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়েছে।
অভিভাবকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে এলাকাটি মাদকে গ্রাস হয়ে যাবে। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ভাই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে দিবারাত্রি এখানে ইয়াবার হাট বসে। জাদীমুরা নয়াপাড়া এলাকার লাল মিয়ার পুত্র জাফর আলম, জামাল হোছন, ইয়াবা সরওয়ার, লালু মিয়ার পুত্র মোঃ আলম ও নজু মিয়ার পুত্র আব্দুল মাজেদ সহ ৫জইন্যা সিন্ডিকেট ইয়াবার বড় চালান এনে পাইকারী দামে ওপেন সিক্রেট বিক্রি করছে। বাড়ীর পাশ দিয়ে নাফনদীতে বয়ে যাওয়া জাদীমুরা জাদীর খালের অবস্থান হওয়ায় সিন্ডিকেটটি সহজেই ইয়াবা আমদানী-রপ্তানী করছে। এলাকার যুবকদের মাধ্যমে বিশাল ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। সিন্ডিকেট সর্দার লাল মিয়ার পুত্র সরওয়ার কামাল অল্প দিনেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফে সম্পদের পাহাড় গড়ে আলাদিনের চেরাগ বনে গেছে। এখানকার যুবকরা ইয়াবা ফাঁদে পড়ে নানান ধরণের অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। অভিভাবকরা নিজ সন্তানদের নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে অনেকটা দিশেহার হয়ে গেছে। জরুরী ভিত্তিতে এলাকাটিকে ইয়াবার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করে আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে উক্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে সাড়াশি অভিযান জোরদার করতে হবে।
পাঠকের মতামত